তীব্র শীতে ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকেরা

ধানের ভ্যারাইটি উদ্ভাবনে নিয়মিত গবেষণা করে জাত উদ্ভাবন করছে বাংলাদেশ রাইস রিসার্স ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা)। দুটি প্রতিষ্ঠানই গবেষণা করে লবণাক্ততা সহিঞ্চু, খরা সহিঞ্চু, জলমগ্নতা সহিঞ্চু ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকরী শীত সহিঞ্চু ও উচ্চ তাপ সহনশীল কোন জাত আমাদের নেই।

টানা কয়েকদিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সারাদেশেই আলু ও বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে করে আলুতে কৃষকদের লেট ব্লাইট বা নাবী ধ্বসা রোগ ও বোরোর বীজতলায় চারা পচে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক ও কৃষি গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ব্যপক কমে যাওয়া এবং রোদ না থাকাটা ফসলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর একটি বড় কারণ হলো শীত সহিষ্ণু ভ্যারাইটি না থাকা।
কৃষি বিভাগ বলছে, জানুয়ারীর প্রথম থেকেই তীব্র শীত অনুভুত হলেও সপ্তাহখানেকের বেশি সময় শৈত্যপ্রবাহ ও প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী বা তারও নিচে নেমে যায়।
জয়পুরহাট জেলা আলু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এই জেলায় চলতি বছর ৩৮ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করেছেন কৃষকেরা। কিন্তু গত কয়েকদিনের শীতের তীব্রতায় আলু থেকে লাভ নিয়ে তারা শঙ্কায় পড়েছেন।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, “হঠাৎ করেই শীতের প্রকোপ বেড়ে গেছে। তাপমাত্রাও অনেক কমে গেছে। এতে করে আমাদের জেলার ফসল বিশেষ করে আলুতে একটু সমস্যা হয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁতেও। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে , “এবার জেলায় ৫৫ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। শীতের কারণে এখন পর্যন্ত ১৬৬ হেক্টর জমির আলু আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া শীতে বোরো বীজতলার সাড়ে ১৩ হেক্টর, শাকসবজি ২১ হেক্টর ও ৬ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাপমাত্রার কমবেশিতে লেট ব্লাইট এবং অল্টারনেরিয়া ব্লাইট নামে বিভিন্ন ফসলেও রোগ দেখা দিচ্ছে।”

বীজতলার চারাও মরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে বগুড়ায়। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রেও বোরোর বীজতলায় চারা মরে যাবার খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয় বোরো ধানের বীজতলায় ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা, বীজতলা রাতে স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। এ সময় আলুতে লেট ব্লাইট রোগ এবং সরিষায় অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আলুতে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর অনুমোদিত মাত্রায় ম্যানকোজেব গোত্রের ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ধানের ভ্যারাইটি উদ্ভাবনে নিয়মিত গবেষণা করে জাত উদ্ভাবন করছে বাংলাদেশ রাইস রিসার্স ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা)। দুটি প্রতিষ্ঠানই গবেষণা করে লবণাক্ততা সহিঞ্চু, খরা সহিঞ্চু, জলমগ্নতা সহিঞ্চু ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকরী শীত সহিঞ্চু ও উচ্চ তাপ সহনশীল কোন জাত নেই। তবে এই ধরনের ভ্যারাইটি উদ্ভাবনে দুটি প্রতিষ্ঠানই কাজ করছে।
গবেষকরা জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ধানের যে জাতগুলো রয়েছে সেগুলো ৩০ ডিগ্রীর বেশি তাপমাত্রায় উপযোগী নয়। একইভাবে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী বা তার নিচে নেমে গেলে তার উপযোগী ভ্যারাইটিও আমাদের নেই।

তবে ব্রি দাবি করছে, ব্রি-ধান ৩৬ ও ব্রি-ধান ৪৫ জাত দুটি শীত সহিঞ্চু। কিন্তু এগুলো কার্যকরীভাবে মাঠ পর্যায়ে বাজারজাত কোন উদ্যোগ নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি হাওড়ের জন্য বিশেষ একটি কোল্ড টলারেন্ট জাত উদ্ভাবনের জন্য কাজ করছে। গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বাড়ছে। আবার গরমকালে তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। জনজীবনের পাশাপাশি এখন কৃষিতেও এ প্রভাব স্পষ্টতই তীব্র হয়ে উঠেছে।
ধানের ভ্যারাইটি উদ্ভাবনে নিয়মিত গবেষণা করে জাত উদ্ভাবন করছে বাংলাদেশ রাইস রিসার্স ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা)। দুটি প্রতিষ্ঠানই গবেষণা করে লবণাক্ততা সহিঞ্চু, খরা সহিঞ্চু, জলমগ্নতা সহিঞ্চু ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকরী শীত সহিঞ্চু ও উচ্চ তাপ সহনশীল কোন জাত আমাদের নেই।

টানা কয়েকদিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সারাদেশেই আলু ও বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে করে আলুতে কৃষকদের লেট ব্লাইট বা নাবী ধ্বসা রোগ ও বোরোর বীজতলায় চারা পচে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক ও কৃষি গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ব্যপক কমে যাওয়া এবং রোদ না থাকাটা ফসলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর একটি বড় কারণ হলো শীত সহিষ্ণু ভ্যারাইটি না থাকা।
কৃষি বিভাগ বলছে, জানুয়ারীর প্রথম থেকেই তীব্র শীত অনুভুত হলেও সপ্তাহখানেকের বেশি সময় শৈত্যপ্রবাহ ও প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী বা তারও নিচে নেমে যায়।
জয়পুরহাট জেলা আলু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এই জেলায় চলতি বছর ৩৮ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করেছেন কৃষকেরা। কিন্তু গত কয়েকদিনের শীতের তীব্রতায় আলু থেকে লাভ নিয়ে তারা শঙ্কায় পড়েছেন।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, “হঠাৎ করেই শীতের প্রকোপ বেড়ে গেছে। তাপমাত্রাও অনেক কমে গেছে। এতে করে আমাদের জেলার ফসল বিশেষ করে আলুতে একটু সমস্যা হয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁতেও। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে , “এবার জেলায় ৫৫ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। শীতের কারণে এখন পর্যন্ত ১৬৬ হেক্টর জমির আলু আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া শীতে বোরো বীজতলার সাড়ে ১৩ হেক্টর, শাকসবজি ২১ হেক্টর ও ৬ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাপমাত্রার কমবেশিতে লেট ব্লাইট এবং অল্টারনেরিয়া ব্লাইট নামে বিভিন্ন ফসলেও রোগ দেখা দিচ্ছে।”

বীজতলার চারাও মরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে বগুড়ায়। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রেও বোরোর বীজতলায় চারা মরে যাবার খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয় বোরো ধানের বীজতলায় ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা, বীজতলা রাতে স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। এ সময় আলুতে লেট ব্লাইট রোগ এবং সরিষায় অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আলুতে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর অনুমোদিত মাত্রায় ম্যানকোজেব গোত্রের ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ধানের ভ্যারাইটি উদ্ভাবনে নিয়মিত গবেষণা করে জাত উদ্ভাবন করছে বাংলাদেশ রাইস রিসার্স ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা)। দুটি প্রতিষ্ঠানই গবেষণা করে লবণাক্ততা সহিঞ্চু, খরা সহিঞ্চু, জলমগ্নতা সহিঞ্চু ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকরী শীত সহিঞ্চু ও উচ্চ তাপ সহনশীল কোন জাত নেই। তবে এই ধরনের ভ্যারাইটি উদ্ভাবনে দুটি প্রতিষ্ঠানই কাজ করছে।
গবেষকরা জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ধানের যে জাতগুলো রয়েছে সেগুলো ৩০ ডিগ্রীর বেশি তাপমাত্রায় উপযোগী নয়। একইভাবে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী বা তার নিচে নেমে গেলে তার উপযোগী ভ্যারাইটিও আমাদের নেই।

তবে ব্রি দাবি করছে, ব্রি-ধান ৩৬ ও ব্রি-ধান ৪৫ জাত দুটি শীত সহিঞ্চু। কিন্তু এগুলো কার্যকরীভাবে মাঠ পর্যায়ে বাজারজাত কোন উদ্যোগ নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি হাওড়ের জন্য বিশেষ একটি কোল্ড টলারেন্ট জাত উদ্ভাবনের জন্য কাজ করছে। গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বাড়ছে। আবার গরমকালে তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। জনজীবনের পাশাপাশি এখন কৃষিতেও এ প্রভাব স্পষ্টতই তীব্র হয়ে উঠেছে।
বিজনেস দর্পণ
বিজনেস দর্পণhttp://businessdorpon.com
Empowering your business decisions with reliable news and data.

লেখক থেকে আরো

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Advertismentspot_img

সাম্প্রতিক সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা মেনে চীনের জন্য নতুন চিপ তৈরি করছে এনভিডিয়া

মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পর আবারও চীনে রপ্তানির জন্য বিশেষভাবে নতুন চিপ ডিজাইন করতে শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়া।এনভিডিয়া জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা...

বিশ্বের শীর্ষ ধনী পরিবার সাড়ে ৫২ লাখ কোটি টাকার মালিক

বিশ্বের ধনীতম পরিবার ৪৩২ ‍বিলিয়ন ডলারের মালিক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৫২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।বাংলাদেশের সর্বশেষ বাজেটের সাড়ে ছয় গুণ! আর এ...

আমেরিকার জনসংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষ ব্যবহার করেন এই অ্যাপটি!

আমেরিকার মোট জনসংখ্যা বর্তমানে ৩৪ কোটি। অথচ একটি অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা তার চেয়েও ১ কোটি বেশি, অর্থাৎ ৩৫ কোটি। বলা হচ্ছে গুগলের...

সর্বশেষ খবরের সাথে আপ টু ডেট থাকতে চান?

আমরা আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই! আপনার বিবরণ পূরণ করুন এবং আমরা আমাদের সকল আপডেট আপনাকে জানাবো।